পদ্মপূরাণে বর্ণনা হয়েছে একসময় জৈমিনি ঋষি তাঁর গুরুদেব মহর্ষি ব্যাসদেবকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে গুরুদেব! আপনি কৃপা করে একদশী সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বলুন-

মহর্ষি ব্যাসদেব বললেন- সৃষ্টির প্রারম্ভে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই জড় সংসারে স্থাবর-জঙ্গম সৃষ্টি করলেন এবং মর্ত্যলোকবাসী মানুষদের শাসনের জন্য পাপপুরুষ সৃষ্টি করলেন। সেই পাপপুরুষের অঙ্গণ্ডলি বিভিন্ন প্রকারের পাপ দিয়ে নির্মিত হল। পাপপুরুষের মাথাটি ব্রহ্মহত্যা পাপ দিয়ে, মুখ স্বর্ণ দিয়ে, চক্ষুদুটি মদ দিয়ে,  দুই কর্ণ-ণ্ডরুপত্নী গমন, দুই নাসিকা- স্ত্রীহত্যা, দুই বাহু- গোহত্যা পাপ, গ্রীবা-ধন অপহরণ, গলদেশ-ভ্রুণহত্যা, বক্ষ-পরস্ত্রী-গমন, উদর-আত্মীয়স্বজন বধ, নাভি- শরণাগত বধ, কোমর- আত্মশ্লাঘা, দুই ঊরু- গুরুনিন্দা, শিশ্ন- কন্যা বিক্রি, মলদ্বার-গুপ্তকথা প্রকাশ, দুই পা- পিতৃহত্যা, শরীরের রোম- সমস্ত উপপাতক। এভাবে বিভিন্ন পাপ দ্বারা ভয়ঙ্কর পাপপুরুষ নির্মিত হল।

ভগবান শ্রীবিষ্ণু পাপপুরুষের ভয়ঙ্কর রূপ দর্শন করে মর্ত্যের মানব জাতির দুঃখ মোচন করার কথা চিন্তা করতে লাগলেন। একদিন গড়ুড়ের পিঠে চড়ে ভগবান চললেন যমরাজের আলয় যমপুরিতে। ভগবানকে দর্শন করে যমরাজ দণ্ডবৎ প্রণতি নিবেদন করলেন এবং উপযুক্ত স্বর্ণ সিংহাসনে বসিয়ে পাদ্য অর্ঘ্য আদি ষোড়ষ উপাচার দিয়ে যথাবিধি ভগবানের পূজা করলেন।

যমরাজের সঙ্গে কথোপকথনকালে ভগবান শুনতে পেলেন দক্ষিণ দিক থেকে অসংখ্য জীবের আর্তক্রন্দন ধ্বনি। তখন ভগবান যমরাজকে প্রশ্ন করলেন-এ আর্তক্রন্দন কেন?

যমরাজ উত্তর দিলেন, হে প্রভু, মর্ত্যের,পাপী মানুষেরা নিজ কর্মদোষে নরক যন্ত্রণা ভোগ করছে। সেই যাতনার আর্ত চীৎকার শোনা যাচ্ছে।

যন্ত্রণাকাতর পাপাচারী জীবদের দর্শন করে করুণাময় ভগবান চিন্তা করলেন–আমিই সমস্ত প্রজা সৃষ্টি করেছি, আমার সামনেই ওরা কর্ম দোষে দুষ্ট হয়ে নরক যান্ত্রণা ভোগ করছে, এখন আমিই এদের সদগতির ব্যবস্থা করব।

ভগবান শ্রীহরি সেই পাপাচারীদের সামনে একাদশী তিথি রূপে এক দেবীমুর্তিতে প্রকাশিত হলেন। সেই পাপীদেরকে একাদশী ব্রত আচরণ করালেন। একাদশী ব্রতের ফলে তারা সর্বপাপ মুক্ত হয়ে তৎক্ষণাৎ বৈকুণ্ঠ ধামে গমন করল।

শ্রীব্যাসদেব বললেন, হে জৈমিনি! শ্রীহরির প্রকাশ এই একাদশী সমস্ত ব্রতের মধ্যে উত্তম ব্রত।

কিছুদিন পরে ভগবানের সৃষ্ট পাপ পুরুষ এসে শ্রীহরির কাছে করজোড়ে কাতর প্রার্থনা জানাতে লাগল- হে ভগবান! আমি আপনার প্রজা। আমাকে যারা আশ্রয় করে থাকে, তাদের কর্ম অনুযায়ী তাদের দুঃখ দান করাই আমার কাজ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি একাদশীর প্রভাবে আমি কিছুই করতে পারছি না, বরং ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছি। কেননা একাদশী ব্রতের ফলে প্রায় সব পাপাচারীরা বৈকুণ্ঠের বাসিন্দা হয়ে যাচ্ছে।  হে ভগবান, এখন আমার কি হবে? আমি কাকে আশ্রয় করে থাকব? সবাই যদি বৈকুণ্ঠে চলে যায়, তবে এই মর্ত্য জগতের কি হবে? আপনি বা কার সঙ্গে এই মর্ত্যে ক্রীড়া করবেন?

পাপপুরুষ পুনরায় বলল- হে ভগবান, যদি আপনার এই সৃষ্ট বিশ্বে ক্রীড়া করবার ইচ্ছা থাকে তবে, আমার দুঃখ দূর করুন। একাদশী ভয় থেকে আমাকে রক্ষা করুন। হে কৈটভনাশন, আমি একমাত্র একাদশীর ভয়ে ভীত হয়ে পলায়ন করছি। মানুষ, পশুপাখী, কীট-পতঙ্গ, জল-স্থল, বন-প্রান্তর, পর্বত-সমূদ্র, বৃক্ষ, নদী, স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল সর্বত্রই আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্ত একাদশীর প্রভাবে কোথাও নির্ভয় হতে পারছি না। তাই আজ আপনার শরণাপন্ন হয়েছি।

হে ভগবান, এখন দেখছি, আপনার সৃষ্ট অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে একাদশীই প্রাধান্য লাভ করেছে, সেইজন্য আমি কোথাও আশ্রয় পাচ্ছি না। আপনি কৃপা করে আমাকে অভয় প্রদান করুন।

পাপপুরুষের প্রার্থনা শুনে ভগবান শ্রীহরি বলতে লাগলেন- হে পাপপুরুষ! তুমি দুঃখ করো না। যখন একাদশী এই ত্রিভুবনকে পবিত্র করতে আবির্ভুত হবে, তখন তুমি অন্ন ও রবিশস্য মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করবে তা হলে আমার মূর্তি একাদশী তোমাকে বধ করতে পারবে না। একাদশী তিথিতে যারা এ সকল শস্য দানা গ্রহণ করবে তুমি তাদেরকে আশ্রয় করে থাকবে।

একাদশী কী?

 একাদশী’ একটি সংস্কৃত শব্দ। জ্যোতিষশাস্ত্র বা বৈদিক দিনপঞ্জি অনুযায়ী মাসের দুটি পক্ষের (এক পক্ষ = ১৫ দিন) ১১ তম দিবসে তা অনুষ্ঠিত হয়।  অর্থাৎ প্রতি মাসে দুটি একাদশী তিথি হয়ে থাকে। অমাবস্যার পর থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত কালকে বলা হয় শুক্লপক্ষ এবং পূর্ণিমা থেকে অমাবস্যা পর্যন্ত কালকে বলা হয় কৃষ্ণপক্ষ। এভাবে আরো বারো (১২) মাসে চব্বিশটি (২৪) একাদশী- বরুথিনী, মোহিনী, অপরা, পাণ্ডবা, যোগিনী, শয়ন, কামিকা, পবিত্রারোপিণী, অন্নদা, পার্শ্বৈ, ইন্দিরা, পাশাঙ্কুশা, রমা, উত্থান, উৎপন্না, মোক্ষদা, সফলা, পুত্রদা, ষট্তিলা, ভৈমী (জয়া), বিজয়া, আমলকী, পাপমোচনী এবং কামদা একাদশী। তবে কোনো বছরে অধিক মাস বা পুরুষোত্তম মাস (মলমাস) থাকলে, তখন অতিরিক্ত দুটি একাদশী হয়- শুক্লপক্ষের পদ্মিনী একাদশী এবং কৃষ্ণপক্ষের পরমা একাদশী-

একাদশীকে মাধব তিথি বা হরিবাসর তিথি বলা হয়। মাধব হলেন পরেমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং তিথি মানে বিশেষ সময়। অর্থাৎ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা তাঁর প্রিয় তিথিকে বলা হয় মাধব তিথি। জগজ্জীবের কল্যাণের নিমিত্তে ভগবান এই তিথিতে একাদশীদেবী রূপে প্রকাশিত হন। তাই ভগবদ্ভক্তগণ ভগবানের সন্তুষ্টি বিধানার্থে একাদশী তিথি বিশেষভাবে উদযাপন করে থাকেন। কেননা, তা সমস্ত ব্রতের মধ্যে উত্তম ব্রত।

একাদশীতে উপবাসের বৈজ্ঞানিক দিক

 ডিএনএ অর্থাৎ ডিঅক্সিরাইবোনিইক্লিক অ্যাসিড জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ বা তথ্য ধারণ করে। কিন্তু ডিএনএ- এর একটি অংশ কোনো তথ্য বহন করে না- এদের বলা হয় জাঙ্ক ডিএনএ বা নন কোডিং। আমাদের দেহের প্রতিনিয়ত কোষ বিভাজনের সময় ডিএনএ-ও বিভাজিত হচ্ছে এবং জাঙ্ক ডিএনএগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। “তাহলে এ জাঙ্ক ডিএন- এর প্রয়োজনীয়তা কি? তবে কি স্রষ্টা ত্রুটিপূর্ণ যিনি অপ্রয়োজনীয় একটি উপাদান সৃষ্টি করেছেন।”জাঙ্ক ডিএনএ সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের প্রথমে এমনই ধারণা ছিল। প্রকৃতপক্ষে মানুষের দেহে এই কোষ বিভাজন অনন্ত নয়, যার কারণে মানুষ মৃত্যুবরণ করে অর্থৎ আর কোষ বিভাজন হয় না এবং পুরাতন কোষগুলো ধ্বংস হতে থাকে ফলে শরীর ধীরে ধীরে নিস্তেজ ও অকার্যকর হতে শুরু করে। প্রকৃতপক্ষে জাঙ্ক ডিএনএ বা টেলোমরের পরিমাণই কোনো ব্যক্তির আয়ুর সীমা নির্দেশ করে। প্রতি কোষ বিভাজনে যত বেশি পরিমাণ জাঙ্ক ডিএনএ হারিয়ে যাবে, মানুষ তত দ্রুত মৃত্যুবরণ করবে আর যত কম জাঙ্ক ডি এনএ হারাবে আয়ু তত কম ক্ষয় হবে।

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা মানুষের আয়ু বৃদ্ধি করার জন্য দুটি বিষয় বিবেচনা করেন। একটি হলো কোষ বিভাজনের হার কমানো, যার ফলে বড় আকারের জাঙ্ক ডিএনএ চলে যায় না। কেননা যদি বড় আকারের জাঙ্ক ডিএনএ ক্ষয় হয়, তবে ক্যালোরি বেশি ক্ষয় করে। ফলে শক্তি বেশি ক্ষয় হবার ফলে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়।

এই পরীক্ষায় দুটি বিষয় বেরিয়ে এসেছে। যারা মাংস আহার করে, অবৈধ সঙ্গ করে, নেশা করে, দ্রুত কোষ বিভাজনের ফলে তাদের বড় আকারের জাঙ্ক ডিএনএ হারিয়ে যায়। ফলে তাদের আয়ু কমে যায়। আর শাকাহারী, তাদের কোষ বিভাজন ধীর গতিসম্পন্ন, ফলে তাদের আয়ু কম ক্ষয় হয়। ১৪ জন ছত্রকে নিয়ে এই পরীক্ষা করা হয়েছিল, যেখানে ১৫ দিন ধরে তারা অভাবনীয় ফল লাভ করে কিন্তু একটি সমস্যা ছিল যার কারণে তারা দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে তারা আবার গবেষণা করে দেখেছেন যে, প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর অন্তর ৩৬ ঘন্টা অনাহারে থাকলে পূর্বের সমস্যা থাকে না। তাই বৈদিক শাস্ত্রে যে একাদশীর কথা বলেছেন, তা সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত। তাই একাদশীতে উপবাস কেবল আধ্যাত্মিক দিক থেকে নয়, জাগতিক দিক থেকে বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যখন আপনি নির্দিষ্ট সময় অনাহারে থাকবেন তখন কোষ বিভাজন কমে যাবে এবং আয়ু বৃদ্ধি পাবে।

একাদশী ব্রত বিধি

উপবাসের সবচেয়ে ভালো বিধান হলো নির্জলা থাকা। কিন্তু তা সবার পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে শুধু জল গ্রহণ করবে। তাও সম্ভব না হলে ফল, দুধ এবং ঘি অথবা সূর্যমূখী তেলে রান্না করা সবজি আদি একাদশীর প্রসাদ গ্রহণ করা। অন্যান্য সবধরণের তেল অবশ্যই বর্জনীয়। নির্জলা উপবাস করলে জল দিয়ে এবং ফলমূল গ্রহণ করলে অন্ন দিয়ে উপবাস ভঙ্গ করতে হয়। শ্রীমদ্ভাগবতে আমরা দেখতে পাই, একাদশীর পরদিন মহারাজ অম্বরীষের গৃহে যখন দুর্বাসা মুনি আতিথ্য গ্রহণ করতে এসেছিলেন, তখন মহারাজ অম্বরীষ উপবাস নিয়ে দ্বিধান্বিত হয়েছিলেন। দ্বাদশীতে পারণের সময় কম ছিল। তখন তিনি ভাবছিলেন, যদি অতিথি রেখে পারণ করেন তাহলে বৈষ্ণব অপরাধ হবে। আবার যদি পারণের নির্ধারিত সময়ের ভেতর তা না করেন, তাহলে একাদশী সম্পূর্ন হবে না। তখন তিনি জল গ্রহণ করে উপবাস ভঙ্গ করেছিলেন।

একাদশীতে কেন রবিশস্য বর্জন?

নিউটনের মহাকর্ষীয় সূত্র অনুযায়ী এ মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তুকণা একে অপরকে নিজ কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বল বস্তুকণাদ্বয়ের ভর এবং মধ্যবর্তী দূরত্বের উপর নির্ভর করে। তাই পৃথিবীর উপরে চন্দ্রের প্রভাব রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, চন্দ্রের কিরণে শষ্য পরিপুষ্ট হয় এবং চন্দ্রের প্রভাবে সাগরে জোয়ার-ভাটা হয়। জোয়ারের সময় সমুদ্রের জল ফুলে উঠে। গবেষণায় দেখা গেছে, দশমী থেকে দ্বাদশী পর্যন্ত চন্দ্রের এ আকর্ষণ বেশি হয়। অর্থাৎ চন্দ্রের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ হয় একাদশীতে। কঠিন বস্তুর চেয়ে তরল এবং বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে চন্দ্রের আকর্ষণ ভালোভাবে কাজ করে। আবার, শষ্যের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তা শরীরে জল ধারণ করে রাখে অর্থাৎ শরীর থেকে জল নির্গত হতে দেয় না। তদুপরি, আমাদের শরীরে শতকরা ৭০-৭৫ ভাগই জল। তাই, যদি একাদশীতে শষ্য গ্রহণ করা হয়, তবে দেহে জলের আর্ধিক্য হয় এবং অনেক রোগ সৃষ্টি করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানেও একই তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু যদি একাদশীতে শষ্য বর্জন করে নির্জলা উপবাস অথবা ফলমূলাদি গ্রহণ করা হয়, তবে শরীরের অতিরিক্ত জল সহজে নির্গত হয়। ফলে রোগ-ব্যাধি কম হয়। সুতরাং, বৈদিক শাস্ত্রে একাদশীতে ধান, গম, যব, ভূট্টা, ডাল, সরিষা ইত্যাদি রবিশস্য বর্জনের যে নিদের্শ দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে বিজ্ঞান সম্মত।

একাদশী ব্রতের বয়সসীমা

একাদশী ব্রত পালনে বয়সসীমা প্রসঙ্গে হরিভক্তিবিলাস (১২/৭৫) ধৃত কাত্যায়ন স্মৃতিতে বলা হয়েছে- অষ্টবর্ষাধিকো মর্ত্যা অপূর্ণাশীতিবৎসরঃ। একাদশ্যামুপবসেৎ পক্ষয়োরুভয়োরপি॥ অর্থাৎ আট বছর বয়সের পর থেকে আশি বছর বয়স পর্যন্ত মানবগণ শুক্ল এবং কৃষ্ণ উভয় পক্ষের একাদশীতে উপবাস করবে। নারদীয় পুরাণেও সেকথা বলা হয়েছে।

একাদশী কেবল বিধবাদের জন্য নয়

ধর্মকর্ম হলো বৃদ্ধদের জন্য- এধরণের মতবাদ তো আমাদের সমাজে প্রচলিত আছেই, অধিককন্তু অনেকেরই ধারণা একাদশী ব্রত কেবল বিধবাদের জন্য। এই ভ্রান্ত সংস্কার থেকে সমাজকে মুক্ত করার জন্য শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শচীমাতার মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। একদিন মহাপ্রভু তাঁর মায়ের পায়ে প্রণতি নিবেদন করে বলেছিলেন, “মা, আমাকে কি তুমি একটি দান দেবে?” মা উত্তরে বলেছিলেন, “তুমি যা চাইবে, আমি তা-ই দেব। তখন মহাপ্রভু শচীমাতাকে একাদশীতে অন্ন না খাওয়ার কথা বললেন। শচীমাতা বলেছিলেন, “তুমি ভালো কথাই বলেছ। আমি একাদশীর দিন অন্ন গ্রহণ করব না।”

মাতা বলেতাই দিব, যা তুমি মাগিবে।

প্রভু কহেএকাদশীতে অন্ন না খাইবে

শচী কহেনা খাইব, ভালোই কহিলা।

                     সেই হৈতে একাদশী করিতে লাগিলা (চৈ. . আদি ১৫/১০)