আমাদের বিবরণ

শ্রীল অভয়চরনাবিন্দ স্বামী প্রভুপাদ, ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে সারা বিশ্বে ‘হরেকৃষ্ণ আন্দোলন’ নামে পরিচিত আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনাময় সংঘ (ইসকন) প্রতিষ্ঠিত করেন। অতি স্বল্প সময়ে, এই সংস্থা বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ব্যাপকহারে বিস্তার লাভ করেছে।  সারাবিশ্ব জুড়ে এখন ইসকনে পাঁচ শতাধিক প্রচার কেন্দ্র, মন্দির, সহস্রাধিক নামহট্ট, শতাধিক অনুমোদিত নিরামিষ রেস্তোরা, বিভিন্ন প্রকার সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং লক্ষাধিক সদস্য রয়েছে।

ইসকনের দর্শণ বৈদিক সংস্কৃতির একেশ্বরবাদের অন্তর্গত গৌড়ীয়-বৈষ্ণব সম্প্রদায়ে প্রচলিত সংস্কৃত শব্দে রচিত শ্রীম্দ্ভাগবতগীতা, শ্রীম্দ্ভাগতমাদি গ্রন্থের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এ্সমস্ত গ্রন্থের অপ্রাকৃত শব্দগুলো ভক্তিযোগের গভীরতম বিষয়ে প্রবেশ করে, যাতে একজন ভগবানের সাথে তার সম্পর্কের পুন:প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে জীবনের চরম লক্ষ্যে পৌছাঁতে পারে।

সর্বশক্তিমত্তাকে স্বীকার করে বিশ্বের প্রতিটি সম্প্রদায় ভগবানকে আল্লাহ্, জিহবাহ্, রাম আদি বিভিন্ন নামে সম্বোধন করে থাকে। ইসকনের অনুসারীগণেরাও হরে-কৃষ্ণ মহামন্ত্র উচ্চারনের মাধ্যমে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর শক্তির নিকট তাঁদের সর্বদা সেবা প্রদান করার প্রার্থনা করে থাকে। মহামন্ত্রটি হল- ‘হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে’।

ইসকনের প্রামাণিকতা আজ বিশ্বের অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনুমোদিত। ঐতিহাসিক ও লেখক এ, এল, বোসাম ইসকন সম্বন্ধে লিখেছেন, “ মাত্র বিশ বছরে ইসকন প্রায় শূন্য অবস্থা হতে আজ পাশ্চাত্য জগতে সুপরিচিত হয়ে উঠেছে। আমার মনে হয়, এটি পাশ্চাত্য জগতের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।” হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপারেটিফ রিলিজিওন এবং ইন্ডিয়ান স্ট্যাডিস বিষয়ক প্রফেসর ডায়ানা ইক্ ইসকন সম্বন্ধে বলেছেন, “ মনুষ্যজাতির ধর্মীয়বোধকে একটি সম্মানীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে এই প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।”

ইসকন প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল প্রভুপাদ তার গুরুদেবের নির্দেশনাক্রমে পাশ্চাত্যে কৃষ্ণভাবনাময় প্রচারে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং পরিশেষে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও গুরুদেবের বাণীর প্রতি অগাধ বিশ্বাসের দরুন সফলতা অর্জন করেন। ভারতীয় বৈষ্ণব সংস্কৃতিকে অত্যন্ত সরল ও প্রাঞ্জলভাবে পাশ্চাত্যবাসীর কাছে তার উপস্থাপন বিশ্বের বিভিন্ন পন্ডিতবর্গ ও ধর্মীয় নেতাদের নিকট অত্যন্ত সমাদৃত।

ইসকন অনুসারীগণ তাঁদের নিজ নিজ গৃহের পাশাপাশি মন্দিরে ভক্তিযোগ অনুশীলন করে থাকে। তারা শুধু নিজেরাই অনুশীলন করেন না পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে, যোগ সেমিনার করার মাধ্যমে, গ্রন্থ বিতরন করার মাধ্যমে এবং সংকীর্তনাদি করার মাধ্যমে কৃষ্ণভাবনাময় প্রচার করে থাকে। এছাড়াও, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, পরিবেশ-বান্ধব অবস্থা স্থাপন, বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ এবং ভক্তিমার্গে আসবার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার মাধ্যমে তারা গরীব ও অভাবগ্রস্থ মানুষদের সাহায্য করে থাকেন।