FESTIVAL

শ্রীবলরাম আবির্ভাব তিথি

ভগবান বলরামের আবির্ভাব

কংসের কারাগারে দেবকী ও বসুদেবের ছয়টি সন্তান পর পর জন্মগ্রহণ করল এবং তাদের প্রত্যেককেই কংস নির্দয়ভাবে তাদের চোখের সামনে হত্যা করল। কিন্তু সপ্তম সন্তান দৈবভাবে আবির্ভূত হয়েছিল, ভগবানের প্রথম প্রকাশ সঙ্কর্ষণ দেবকীর গর্ভে আবির্ভূত হলেন। দেবকীর গর্ভে বলরামের আবির্ভূত হওয়ার সাথে সাথে দেবকীকে অত্যন্ত জ্যোতির্ময় দেখাচ্ছিল। এ সময় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যোগমায়াকে ডাকলেন এবং তাঁকে নির্দেশ দিলেন, “আমি আমার প্রকাশ, সকল অবতারের প্রথম অবতার সুন্দর শিশুরূপী বলরামকে দেবকীর গর্ভ থেকে রোহিনীর গর্ভে স্থানান্তর করতে চাই।”

বিস্তারিত

 

চন্দন যাত্রা মহোৎসব

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ করুণাসিন্ধু, অধমজনার বন্ধু। তিনি পতিত জীবদের তাঁর অহৈতুকী করুণা বিতরণ করতে চান। ভগবানের কৃপা প্রাপ্ত হলেই জীবের দুঃখের পরিসমাপ্তি হবে। সেই দুঃখ বিনাশের উৎসব হচ্ছে চন্দন যাত্রা মহোৎসব।

উৎকলখণ্ডে বর্ণিত আছে- শ্রীজগন্নাথদেব মহারাজ ইন্দ্রদুম্নকে এই রূপ বলেছেন-

বৈশাখস্য মিতে পক্ষে তৃতীয়াক্ষয়সংজ্ঞিকা।

তত্র মাং লেপয়েদগন্ধলেপনৈরতিশোভনম।।

অর্থাৎ বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষে অক্ষয় তৃতীয়া নাম্নী তিথিতে সুগন্ধি চন্দন দ্বারা আমার অঙ্গ লেপন করবে।

বিস্তারিত

 

গৌর পূর্ণিমা

শ্রীমন্মহাপ্রভুর আবির্ভাব তিথি (গৌর পূর্ণিমা)

আজ থেকে পাঁচশ’ তেত্রিশ বছর পূর্বে ভারতের পশ্চিমবাংলার নদীয়া জেলার নবদ্বীপে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের শুভ আবির্ভাব এক অবিস্মরণীয় এবং বিস্ময়কর ঘটনা। বাঙ্গালির হৃদয়ের ধন চৈতন্যদেব- নিমাই, গৌরাঙ্গ, গৌররায়, গোরা, গৌর, গৌরহরি, শচীনন্দন প্রভৃতি নামেও পরিচিত ও একান্ত আপনার জন। তাঁর অনিন্দ্য সুন্দর রূপ ও অকৃত্রিম ভালোবাসায় ধনী-দরিদ্র, বিদ্বান-মূর্খ, জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে আপামর জনসাধারণকে একত্র করে প্রেমের শৃঙ্খলে বেঁধে, মানব জীবনের ক্ষেত্রে যে উত্তরণের পথ দেখিয়েছিল, তা ইতিহাসে কয়েক শতাব্দীর ব্যবধানে সভ্যতার ও সামাজিক অভ্যুদয়ের সূচনা হয়ে থাকে- যাকে স্বর্ণ বা নবযুগ (রেনেসাঁ) বলে।

বিস্তারিত

 

গীতা জয়ন্তী

আজ থেকে প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে শ্রীশ্রী মোক্ষদা একাদশীর পূণ্য তিথিতে, কুরুক্ষেত্র নামক স্থানে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা ও তাঁর প্রিয় ভক্ত অর্জুনকে শ্রীমদ্ভগবতগীতার জ্ঞান দান করেছিলেন। এই মহিম্বানিত তিথিকে গীতা জয়ন্তী বলা হয়। উক্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে ইস্কন স্বামীবাগ আশ্রমে ভক্তগণ পর্যায়ক্রমে ভগবদগীতার ১৮ টি অধ্যায়ের ৭০০ সংস্কৃত শ্লোক আবৃত্তি করেন। এরপর ভগবদগীতার আলোকে বিশেষ প্রবচন প্রদান করা হয়।

বিস্তারিত

 

গোবর্ধণ পূজা

শ্রীমদভাগবদের ১০ম স্কন্ধে চতুর্বিংশ অধ্যায়ে শ্রীল ব্যাসদেব গোবর্ধন পূজার বর্ণনা করেছেন। ব্রজবাসীরা জলের দেবতা দেবরাজ ইন্দ্রকে তুষ্ট করার জন্য এক  যজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর পিতা নন্দ মহারাজকে বিনম্র শ্রদ্ধা সহকারে জিজ্ঞাসা করলেন, হে পিতা এই যজ্ঞ কার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে? এবং এর ফলই বা কি? নন্দ মহারাজ বললেন, আমরা গোপ জাতি। তাই ফসল উৎপাদনসহ গাভীদের খাদ্যের জন্য বৃষ্টি অত্যন্ত প্রয়োজন। তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, বৃষ্টির মূল উৎস দেবরাজ ইন্দ্র নয়। কারণ তিনি যদি বৃষ্টির মূল নিয়ন্ত্রণ কর্তা হন তাহলে সমুদ্রের মধ্যে কেন বৃষ্টি হয়? এভাবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ইন্দ্র যজ্ঞের পরিবর্তে নন্দ মহারাজসহ ব্রজবাসীদের গিরিরাজ গোবর্ধনের মহিমা বর্ণনা করার মাধ্যমে গোবর্ধন পূজা করতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।

বিস্তারিত

 

জগন্নাথের স্নান যাত্রা

জৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে ভগবান শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের আবির্ভাব তিথিকে স্মরণ করে স্নান যাত্রা মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। স্কন্ধ পুরাণ অনুসারে রাজা ইন্দ্রদুম্ন যখন জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রা দেবী কাঠের শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন, তখন এই স্নান যাত্রা উৎসব পালন করেন। শ্রীল প্রভুপাদ সমগ্র ইস্কন মন্দিরগুলোতে রথযাত্রার ১৫ দিন পূর্বে স্নান যা্ত্রা উৎসব আয়োজন করেন। তারই অংশ হিসেবে ইস্কন স্বামীবাগ আশ্রমে মহাসমারোহে এই উৎসব পালিত হয়। গর্ভ গৃহ থেকে জগন্নাথ , বলদেব , সুভদ্রা মহারানীকে স্নান বেদীতে আনয়ন করা হয়। পঞ্চগব্য, পঞ্চামৃত, গঙ্গ জল, বিভিন্ন প্রকার ফলের রস ও ডাবের জল দিয়ে ভগবানের অভিষেক করা হয়।

বিস্তারিত

 

জন্নাষ্টমী

পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষীয়া অষ্টমী তিথিতে রোহিণী নক্ষত্রে যুগপৎ গোকুল ও মথুরাতে আবির্ভূত হন। ভগবানের এই আবির্ভাব তিথিকেই বলা জন্মাষ্টমী। যদিও শাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করা রয়েছে যা অত্যন্ত প্রামাণিক। তথাপি কিছু অল্প বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিরা সেই সব তত্ত্ব বুঝতে পারে না। যদিও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর লীলা বোঝাটা সহজ কথা নয়। সে বিষয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় (গী.৭/২৫) বলেছেন-

বিস্তারিত

 

ঝুলন যাত্রা

শ্রাবণ মাসের পবিত্রারোপণ একাদশী থেকে শ্রীবলরাম পূর্ণীমা পর‌যন্ত পাঁচ দিন ধরে অনুষ্ঠিত হয় বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম উৎসব ঝুলন যাত্রা। এই শ্রাবণী পূর্ণীমাকে ঝুলন পূর্ণীমা বা  রাখি উৎসবও বলা হয়। শ্রীধাম বৃন্দাবনে রাধাকৃষ্ণের দিব্য ঝুলন লীলা স্মরণে দ্বাপর যুগে এই উৎসবের সূচনা হয়েছিল, তারপর থেকে যুগ যুগ ধরে তা চলে আসছে। শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশনায় বিশ্বব্যাপী ইস্কন মন্দিরগুলোর অংশ হিসেবে ইস্কন স্বামীবাগ আশ্রমে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসব মহাসমারোহে পালন করা হয়।

বিস্তারিত

 

দীপাবলী উৎসব

গৌরাব্দ সনের ‘দামোদর’ মাসটি ভগবানের ’দামোদর’ নামের সাথে সম্পর্কিত। ‘দাম’ শব্দের অর্থ ‘রজ্জু’ এবং উদার শব্দের অর্থ ‘উদর’। সুতরাং, ‘দামোদর’ শব্দের অর্থ ‘যার উদর রজ্জু দ্বারা বাঁধা হয়েছে’। ভক্তেরা ভগবানের প্রসন্নতার নিমিত্তে এই মাসের এক পূর্ণিমা হতে আরেক পূর্ণিমা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকার ব্রত পালন করে থাকে।

একদিন গোপাল (কৃষ্ণের বাল্য নাম) মাখনের পাত্র ভেঙ্গে মা যশোদাকে রাগান্বিত করে তুলেন। ফলস্বরূপ, তিনি ভীতসন্ত্রস্ত হন, কিন্তু কোনপ্রকারে মা যশোদা কর্তৃক প্রহারের নিকট হতে নিজেকে রক্ষা করতে সমর্থ হন।

বিস্তারিত

 

নিত্যানন্দ ত্রয়োদশী

নিত্যানন্দ প্রভু ভগবান বলরাম হতে অভিন্ন এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সবচেয়ে একান্ত জন। তিনি ১৩৯৫ শকাব্দের বীরভূমের একচক্রা গ্রামে মাঘী শুক্লা ত্রয়োদশী তিথিতে এই ধরাধামে আবির্ভুত হন। তাঁর পিতার নাম ছিল হাড়াই পন্ডিত এবং মাতার নাম পদ্মাবতী দেবী। কলিযুগের যুগধর্ম হরিনাম সংকীর্তণ ব্যাপকভাবে প্রচারে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে সাহায্য করা হল তাঁর আবির্ভাবের কারণ।

বিস্তারিত

 

নৃসিংহ চতুর্দশী

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর প্রিয় ভক্ত প্রহ্লাদ মহারাজকে সুরক্ষা প্রদান করার জন্য বিশেষ রূপ ধারণ করে বৈশাখ মাসের শুক্লা চতুর্দশীতে এই জগতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এই তিথি নৃসিংহ চতুর্দশী নামে পরিচিত। তাঁর সেই রূপটি ছিল অর্ধাকৃতির মানুষ ও অর্ধাকৃতির সিংহ রূপ। ভগবানের এই রূপটি নৃসিংহ নামে পরিচিত। ‘নৃ’ শব্দের অর্থ মানুষ আর সিংহ শব্দের অর্থ পশুরাজ। তিনি ভক্তবৃন্দের ভক্তি জীবন অনুশীলনের জন্য সমস্ত বাধা সমূলে বিনাশ করেন।

বিস্তারিত

 

রাধাষ্টমী

পরমশ্বের ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন এ জগতের সকল রূপের পরম উৎস, এমনকি ভগবানরে অবতার সমূহেরও। তেমনি শ্রীমতি রাধারাণী সকল ভগবৎবল্লভাগণের উৎস বা আকর, যথা লক্ষ্মীদেবী, রুক্মিণী, সত্যভামা প্রকৃতি। তিনি হচ্ছেন মূল-প্রকৃতি বা আদি প্রকৃতি। সাধারণ মানুষের রাধারাণী সম্বন্ধে কোন ধারণাই নেই। রাধাতত্ত্ব এক অতি গুহ্য বিষয় যা বেদের অগোচর- বেদ গোপ্য। ফল স্বরূপ রাধারাণী সম্বন্ধে বহু ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়েছে, অথবা অনেকের কোনো ধারণাই নেই। শ্রীল প্রভুপাদ বলেন, “দুই অপ্রাকৃত তত্ত্ব শ্রীমতি রাধারাণী ও শ্রীকৃষ্ণ” জড়বাদীদের কাছে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। তাই শ্রীমতি রাধারাণীর তত্ত্ব রহস্য হৃদয়ঙ্গম করতে হলে গভীর পারমার্থিক জ্ঞানের প্রয়োজন। (চৈ.চ আদি ৪/৫৬ তাৎপর্য)

বিস্তারিত

 

রাম নবমী

রাম শব্দের অর্থ আনন্দদায়ক। ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের শুভ আবির্ভাব তিথিকে রাম নবমী বলা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচাইতে গুরত্বপূর্ণ উৎসবগুলোর মধ্যে রাম নবমী অন্যতম। ত্রেতা যুগে ভগবান বিষ্ণু সপ্তম অবতারে অযোধ্যার রাজা দশরথ ও রাণী কৌশল্যার কোল আলো করে চৈত্র মাসের শুল্কপক্ষের নবমী তিথিতে আবির্ভূত হন। তাঁর ভরত, লক্ষণ ও শত্রুঘ্ন নামে তিনজন কনিষ্ঠ ভ্রাতা ছিল।

বিস্তারিত

 

রথযাত্রা-কৃষ্ণপ্রেম প্রাপ্তির উৎসব

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ

রথযাত্রা মহোৎসব সেই পাঁচ হাজার বৎসর পূর্বে সূচনা হয়েছিল, যখন শ্রীকৃষ্ণ, তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বলরাম ও কনিষ্ঠ বোন সুভদ্রাদেবীকে নিয়ে এক সাথে, একটি রথে চেপে দ্বারকা থেকে কুরুক্ষেত্রে এসেছিলেন। সেই কুরুক্ষেত্র ও দ্বারকা নগরী দুটো এখনও বর্তমান। আসলে বৈদিক রীতি অনুযায়ী যেকোনো ধরণের গ্রহণের সময় সকলে পবিত্র নদীতে স্নান করে থাকে। আর তাই কুরুক্ষেত্রের মতো একটি পুণ্য তীর্থস্থানে গমন করে থাকেন। ঠিক যেভাবে কৃষ্ণ, তাঁর ভাই-বোন, পবিবার-পরিজনদের নিয়ে কুরুক্ষেত্রে এলেন। আর সেই সংবাদ পেয়ে সমস্ত গোপীগণ ও বৃন্দাবনের অন্যান্য বাসীন্দারা সবাই শ্রীকৃষ্ণকে দেখবার জন্য চলে এলেন, যেখানে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর শৈশব লীলা প্রকাশ করেছিলেন। শ্রীমতি রাধারাণী ছিলেন গোপীদের মাঝে অন্যতম। তিনি যখন শ্রীকৃষ্ণকে তাঁর সমস্ত ঐশ্বর্যের সহিত দর্শন করলেন, তিনি বললেন “হে আমার প্রিয় কৃষ্ণ, তুমিও এখানে আছো, আর আমিও এখানে এসেছি, কিন্ত আমরা সবাই বৃন্দাবনে তোমার বিরহে কাতর। তাই আমার ইচ্ছা তুমি আমার সাথে আবার বৃন্দাবনে এসে সমস্ত কুঞ্জবনগুলোতে তোমার লীলা প্রকাশ কর।

বিস্তারিত